বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী একটি লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে মৎস্য বিভাগের একটি স্পিডবোট ডুবে গেছে। এ ঘটনায় মো. ফখরুল নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া স্পিডবোটে থাকা পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাত প্রায় ৮টার দিকে উপজেলার মঙ্গল সিকদার লঞ্চঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ ফখরুল লালমোহনের সিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন লালমোহন উপজেলা মৎস্য বিভাগের অফিস সহকারী আব্বাস উদ্দিন, ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সোহাগ, এবং আরও তিনজন পুলিশ কনস্টেবল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরার ওপর সরকারের দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মঙ্গল সিকদার ঘাট সংলগ্ন এলাকায় মৎস্য বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে নদীতে অভিযান পরিচালনা করছিল পুলিশ।
এ সময় হঠাৎ অভিযানকারী দলের স্পিডবোট বিকল হয়ে নদীতে ভাসতে থাকে। একই সময়ে ঈদ উপলক্ষে যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চটি মঙ্গল সিকদার ঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। একপর্যায়ে স্রোতের টানে ভাসতে থাকা স্পিডবোটটি লঞ্চের পেছনের প্রপেলারের কাছে চলে যায়।
বোটটি লঞ্চের নিচে ঢুকে যাওয়ার মুহূর্তে বোটে থাকা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সদস্যরা একপাশে সরে গিয়ে বোট সরানোর চেষ্টা করেন। তবে লঞ্চের প্রপেলারের সৃষ্ট পানির ঘূর্ণিতে স্পিডবোটটি উল্টে ডুবে যায়।
পরে বোটে থাকা অন্যান্যরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ হন পুলিশ কনস্টেবল ফখরুল।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, এটি একটি দুর্ঘটনা। নিখোঁজ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধারে নদীতে অভিযান চালানো হচ্ছে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ ফখরুলের কোনো সন্ধান মেলেনি।