বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিহত কালুখালী উপজেলার ৮ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে পুরো এলাকা।
বাড়ির আঙিনায় এখন শুধুই স্তব্ধতা যেখানে কিছুদিন আগেও ছিল ঈদের আনন্দের প্রস্তুতি, সেখানে আজ শোকের মাতম। রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামে একই পরিবারের একাধিক স্বজন হারিয়ে নিঃস্ব মো. আব্দুল আজিজ বেঁচে ফিরলেও হারিয়েছেন তার ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমীর খাতুন জেসমিন (৩০), আদরের সন্তান আব্দুর রহমান অমীত (১১) এবং খালা শাশুড়ি নাসিমা বেগমকে। মায়ের কান্না, স্বজনদের আহাজারি আর ছোট শিশুদের বোবা দৃষ্টিতে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে।
উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকা যাওয়ার পথে বোয়ালিয়া ইউনিয়নের প্রাণ হারিয়েছেন স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও মুক্তা খানম (৩৮)। স্ত্রী মুক্তা খানমের জানাজা সম্পূর্ণ হওয়ার পরে স্বামীর লাশের সন্ধানে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।
ঈদের আনন্দে বাড়ির পথে ফিরছিল ভবানীপুর গ্রামের ১১ বছর বয়সী ছোট্ট ফাইজ শাহনূর। তার সেই ফেরা হলো নিথর দেহে। শাহনূরের নিষ্প্রাণ দেহ দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্বজনরা। জীবিকার তাগিদে পরিবার থেকে দূরে থাকা ২৪ বছরের মদাপুর ইউনিয়নের তরুণ আশরাফুল ইসলাম মায়ের কাছে ফিরে এলেন লাশ হয়ে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ৫০ জন যাত্রী নিয়ে ফেরিতে উঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার মাধ্যমে বাসটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন।