বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ৩২তম দিনে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলেও মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ করতে তারা প্রস্তুত।
ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও উল্লেখ করেছেন, যদিও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক তেলবাজার অস্থির, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেবে। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে তেলবাজারে সরবরাহ ‘পর্যাপ্ত’, এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তির ফলে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ আরও বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা এখন তার প্রধান অগ্রাধিকার নয়, বরং দ্রুত সময়ের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সমাপ্ত করাই তার লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন হয়। এই পথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক এই প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে যুদ্ধ নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে চলে যেতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই সংঘাত সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে গেলে তা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নীতিনির্ধারকেরা।
এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের নতুন কৌশল হিসেবে সামনে এসেছে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়া। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য এখন ইরান-এর নৌবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করা। এতে করে তেহরানের সামরিক চাপ কমানো এবং তাদের কৌশলগত সক্ষমতা হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।