বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
রাজশাহী, নাটোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও কুষ্টিয়া জেলায় হামের সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, যা জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত এক মাসে ৩০৪ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। মৃতুর একটি বড় কারণ আইসিইউ শয্যা ও ভেন্টিলেটরের তীব্র সংকট।
স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, শিশুদের এই অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। সংকট মোকাবেলায় ঢাকা থেকে ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা হয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশন ও শিশু হাসপাতাল সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ইউএনআইসেফ থেকে হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকার টিকা ক্রয়ে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে টিকা সরবরাহ শুরু হতে পারে। পাশাপাশি আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতির কাজও চলছে।
চট্টগ্রামে চমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলায় ২৯ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্তে কোনো মৃত্যুর রেকর্ড নেই।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭ শিশু ভর্তি রয়েছে, যেখানে আলাদা ইউনিট ও আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। নাটোরে আইসিইউর অভাবে কাশফি আক্তার (৩ মাস) মারা গেছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, এবং টিকার ঘাটতির কারণে অন্তত ২৩০ জন শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশুদের দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, কোভিড-১৯ সময়ের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে তারা উল্লেখ করেছেন।