বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
মিয়ানমারের সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মিন অং হ্লাইং ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটানোর পর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে এক বছরের মধ্যে দেশ বেসামরিক শাসনে ফিরে যাবে। তবে নির্বাচনের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তার পাঁচ বছর সময় লেগেছে।
সংবিধান অনুযায়ী, সেনাপ্রধানের পদ ত্যাগ করলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি আংশিক বেসামরিক শাসনই শুধু, কারণ নতুন সংসদে তার অনুগত সদস্যরা প্রাধান্য পেয়েছেন এবং সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত আসন বহাল রয়েছে।
মিন অং হ্লাইং নতুন একটি পরামর্শদাতা পরিষদ গঠন করেছেন, যাদের কাছে বেসামরিক ও সামরিক সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকবে। অর্থাৎ সামরিক পোশাক না থাকলেও তার প্রভাব কমেনি।
দেশটিতে গত নির্বাচনে অং সান সূচির দলের বড় জয়ের পরই ক্ষমতা দখল করেছিলেন মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকে বিক্ষোভ দমন ও সহিংসতার মাধ্যমে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ চলছে। সাম্প্রতিক পাঁচ বছরে সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত ও লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তরুণ আন্দোলনকর্মী কিয়াও উইন ২০২২ সালের অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় গ্রেপ্তার হন এবং এক সপ্তাহ ধরে নির্যাতনের শিকার হন। তিনি বলেন, “লোহার রড দিয়ে আমার পিঠে মেরেছে, সিগারেটের ছ্যাঁকা, ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।” বর্তমানে তিনি মুক্ত, তবে দেশের ভেতরে কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় বিদেশে কাজের কথা ভাবছেন।
মিন অং হ্লাইং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেনারেল ইয়ে উইন ও-কে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যা সামরিক প্রভাব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতিসংঘের মতে, বর্তমানে মিয়ানমারে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজন এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত। জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন করে তুলেছে।