বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন আবু নাসের শামীম (৫৩) ও জামাল উদ্দিন। ঘটনাগুলো ঘটেছে জোহানসবার্গ শহরের আশপাশের এলাকায়, যা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জোহানসবার্গের নিকটবর্তী সুয়েটোর বারাখওয়ানা শহরে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে গুলিতে নিহত হন আবু নাসের শামীম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
প্রবাসীদের দাবি, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে, যদিও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
শামীম নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারে স্ত্রী ও চার ছেলে রয়েছে। ২০০৬ সালে জীবিকার সন্ধানে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান।
অন্যদিকে, রোববার (১৯ এপ্রিল) মধ্যরাতে জোহানসবার্গের কাছাকাছি পামরিজ এলাকায় ডাকাতদের গুলিতে নিহত হন জামাল উদ্দিন।
জানা যায়, রাত প্রায় ২টার দিকে একদল ডাকাত তার দোকানে (কন্টেইনার) ঢোকার চেষ্টা করে। শব্দ পেয়ে জামাল জেগে উঠে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে বাইরে থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে ডাকাতরা দোকানে ঢুকে নগদ অর্থ ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জামাল উদ্দিন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় যান জীবিকার উদ্দেশ্যে।
প্রবাসে বাংলাদেশিদের ওপর এমন সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে উদ্বেগ বাড়ছে। নিরাপত্তা জোরদার ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
হাফিজ/ আয়না নিউজ