বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
মাগুরার শালিখা উপজেলায় পুত্রবধূকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চুল কেটে নির্যাতন ও ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এসময় শাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নির্যাতিত ওই তরুণী কৌশলে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ঘটনাটি জানাজানি হয়।
জানা গেছে, শালিখা উপজেলার ২নং তালখড়ী ইউনিয়নের দিঘলগ্রাম পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মিম (২০)-এর সঙ্গে প্রায় এক মাস আগে সাত্তর মন্ডলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী সাত্তর মন্ডল কর্মসূত্রে মাদারীপুরের একটি ইটভাটায় অবস্থান করছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে মিমের বিরুদ্ধে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করার অভিযোগ তোলেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। এ অভিযোগের জেরে শ্বশুর সামসুল মন্ডল, ভাসুর উজ্জল গাফ্ফার ও শাশুড়ি রোকেয়া বেগম জোরপূর্বক তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তারা মিমের মাথার চুল কেটে দেন এবং মারধর করে একটি ঘরে আটকে রাখেন।
পরদিন বুধবার দুপুর ১টার দিকে সুযোগ পেয়ে মিম ঘর থেকে বের হয়ে স্থানীয়দের কাছে সাহায্য চান। এ সময় স্থানীয়রা পুলিশ ও তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।
পরে আহত অবস্থায় মিমকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নির্যাতনের শিকার মিম বলেন, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে শালিখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোতালেব হোসেন জানান, ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে শাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ