বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
কুয়েত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের উপাসাগরীয় অঞ্চলের এই তেলসমৃদ্ধ দেশটি প্রায় দু’মাস পর গতকাল বৃহস্পতিবার আকাশীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে বলে কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা কুনা’র বরাত দিয়ে জানিয়েছে তুরস্কের সরকারি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
দেশের আকাশসীমা খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গে কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সংস্থার মহাপরিচালক হামৌদ মুবারক বলেন, “আঞ্চলিক পরিস্থিতিগত কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমরা কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিলাম। আজ তা আবার খুলে দেওয়া হলো। শিগগিরই বিমানবন্দর তার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ফিরে যাবে। আমাদের আজকের এই পদক্ষেপটি হলো সেই পর্যায়ে যাওয়ার সুচিন্তিত এবং প্রথম পদক্ষেপ।”
আরও পড়ুন-
ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের দ্বন্দ্ব। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে চলা সংলাপ ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান।
কুয়েতের বিমানবন্দরের ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দরের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সৌদি নিজেদের বিমানবন্দরে কুয়েতের বিমানগুলো রাখার অনুমতি দেয়ায় রিয়াদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হামৌদ মুবারক।
এফএ/ আয়না