বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
মিয়ানমার বিমানবাহিনীর উচ্চপদস্থ একটি প্রতিনিধি দল দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আমন্ত্রণে তিন দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে ভারত ভ্রমণ করেন। গত ২১ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত আসামের গুয়াহাটি বিমানঘাঁটিতে এই বিনিময় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
১৫ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটির মূল ফোকাস ছিলো বিমানবাহিনীর 'পরিবহন কার্যক্রম'। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে এই সফরের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সফরকালে মায়ানমারের প্রতিনিধি দলকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আধুনিক উড্ডয়ন কার্যক্রম, উন্নত রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি এবং বিমানঘাঁটির কৌশলগত পরিকাঠামো সম্পর্কে বিশদ ব্রিফিং দেওয়া হয়।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই মিথস্ক্রিয়া দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে পেশাদারিত্ব এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও উন্নত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মুখে ভারতের এই সামরিক সম্পৃক্ততা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চলতি মাসের শুরুতেই মায়ানমারে মিন অং হ্লাইং-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে গুয়াহাটির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সফর প্রমাণ করে যে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দিল্লি ও নাইপিদো একে অপরের ওপর আস্থা রাখতে চাইছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনী এই সফরকে "উভয় বাহিনীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং গভীর পেশাদার অঙ্গীকারের প্রতিফলন" হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিশেষ করে পরিবহন বিমান পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময় ভবিষ্যতে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রতিবেশী দুই দেশের যৌথ সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খায়রুল আলম/ হাফিজ/ আয়না নিউজ