বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মন্তব্য করেছেন, এইচএসসি এবং ভর্তি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা-সমন্বয়হীনতার কারণে দেশের শিক্ষার্থীদের এক বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ‘৪০ লাখ বছর’ সময় অপচয় হচ্ছে। ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন-
২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে: শিক্ষামন্ত্রী
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি উত্তীর্ণ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ার জটিলতায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি কাটাতে একটি সমন্বিত ভর্তি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ এবং পরবর্তী স্তরে ভর্তি প্রক্রিয়ার মাঝে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান থাকছে। অক্টোবরে ফলাফল প্রকাশের পর জানুয়ারিতে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে প্রায় এক বছরের সেশনজট তৈরি করছে। এই দীর্ঘ বিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং তাদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ক্ষেপণ রোধ করতেই সরকার এখন থেকে ‘ডিসেম্বর’ মাসকে পরীক্ষার মাস হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ড. এহছানুল হক মিলন আরও জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দুই বছরের পাঠ্যক্রম যেন নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যেই শেষ হয়। সিলেবাস সম্পন্ন হওয়ার পরপরই পরীক্ষা গ্রহণ এবং এর দ্রুততম সময়ের মধ্যে উচ্চতর শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষাও এগিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো শিক্ষা ক্যালেন্ডারকে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যেন কোনো স্তরেই ছাত্রছাত্রীদের সেশনজটের কবলে পড়তে না হয়।
শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং সময় সাশ্রয় করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ফলাফল প্রকাশের পরপরই যেন পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা যায়, সে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সেশনজট কমবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বিনা প্রয়োজনে সময় ও অর্থ ব্যয় করে কোচিং সেন্টারে দৌড়াতে হবে না। শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।