বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
দেশের আট জেলায় রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বজ্রপাতে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ গ্রামীণ বাসিন্দারা রয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে—এখানে পাঁচজন নিহত হন। সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে, ঠাকুরগাঁওয়ে দুজন এবং বগুড়া, নাটোর, পঞ্চগড় ও শেরপুরে একজন করে নিহত হয়েছেন।
গাইবান্ধায় একসঙ্গে তিনজনসহ ৫ জনের মৃত্যু
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন। সুন্দরগঞ্জে একই স্থানে তিনজনের মৃত্যু হয় এবং একজন আহত হন। ফুলছড়িতে ঘোড়াসহ এক যুবকের মৃত্যু ঘটে। সাঘাটায় আরও একজন বৃদ্ধ বজ্রপাতে প্রাণ হারান।
সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে কৃষক-শ্রমিক নিহত
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়। জামালপুরে গরু চরাতে গিয়ে এক ব্যক্তি এবং বাড়ির উঠানে রান্নার সময় এক গৃহবধূ নিহত হন।
অন্যান্য জেলায় মৃত্যু
বগুড়ার গাবতলীতে ছাগল আনতে গিয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়। ঠাকুরগাঁওয়ে মাঠ ও ঘাস কাটার সময় দুইজন প্রাণ হারান। নাটোরে ধান কাটার সময় এক শ্রমিক বজ্রপাতে মারা যান।
পঞ্চগড়ে চা-বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে একজন শ্রমিক নিহত এবং দুইজন আহত হন। শেরপুরে ধান কাটতে গিয়ে ইসলামি ফাউন্ডেশনের এক শিক্ষক বজ্রপাতে মারা যান।
আরও পড়ুন :
মেলান্দহে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: গাছচাপায় মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু
ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আহত দুই শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে বজ্রপাতে দুই নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আবহাওয়া সতর্কতা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ বজ্রঝড়ের কারণে একদিনেই এত প্রাণহানির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা জায়গা, মাঠ বা গাছের নিচে না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অধিকাংশ মৃত্যু ঘটেছে খোলা মাঠে কাজ করার সময়, যেখানে বজ্রপাত থেকে বাঁচার পর্যাপ্ত নিরাপদ আশ্রয় ছিল না।
হাফিজ/ আয়না নিউজ