বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
বাংলার বাঘ হিসেবে খ্যাত একে ফজলুল হক ছিলেন অসাধারণ প্রজ্ঞাবান, অসম সাহসী ও বিচক্ষণ এক রাজনীতিবিদ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) একে ফজলুর হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য, সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি (১৯১৬–১৯২১), কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭–১৯৪৩), পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) এবং পূর্ব বাংলার গভর্নর (১৯৫৬–১৯৫৮) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ফজলুল হক কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি কৃষক প্রজা পার্টি (১৯৩৬) এবং শ্রমিক-কৃষক দল (১৯৫৩) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণমানুষের রাজনীতিকে সংগঠিত করেন।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শেরে বাংলা শিক্ষা, সমাজ সংস্কার ও প্রশাসনিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার উদ্যোগে গঠিত ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’ কৃষকদের ঋণের চক্র থেকে মুক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, শেরে বাংলা বঙ্গীয় চাকরি নিয়োগবিধি, প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজনি আইন ও দোকান কর্মচারী আইনসহ বহু জনকল্যাণমূলক আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন, যা কৃষক-শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে তিনি মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ গঠনের ধারণা দেন, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাবনার সঙ্গে সংযুক্ত বলে বিবেচিত হয়।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের জীবনাদর্শ অনুসরণ করে কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ