বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
আজ শনিবার (৩০ মে) বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে নিহত হন তিনি।
জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। পরে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং ‘জেড ফোর্স’-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার শাসনামলে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, কৃষি উন্নয়ন, খাল খনন কর্মসূচি এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার ধারণা বাস্তবায়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল এবং অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ।
আজ ভোর ৬টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। এ কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেয়।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বিভিন্ন স্থানে মিলাদ মাহফিল, স্মরণসভা এবং দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ