বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
হোয়াইট হাউসে উপদেষ্টাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেও ইরানকে ঘিরে চলমান সংকট ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (২৯ মে) হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানকে নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ওই চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এখনো তা উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরির পথ থেকে সরে আসতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে উভয় দিকের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ধ্বংস করার অনুমতি দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থনৈতিক লেনদেন হবে না।
তবে ইরান এসব দাবির অনেকটাই প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্পের বক্তব্যে “সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ” রয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংসের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি বলে দাবি করেছে তেহরান।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, তাদের মূল লক্ষ্য এখন যুদ্ধের অবসান ঘটানো। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বর্তমানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
হাফিজ/ আয়না নিউজ