বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
মো: খায়রুল আলম খান : বড় ধরনের ফ্যাক্টরি বা অফিসের সুরক্ষায় এবার কেনা যাবে আস্ত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম! গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মস্কোর বহুতল ভবনের ছাদে কপ্টার দিয়ে বসানো হচ্ছে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।
সম্প্রতি মস্কোর নর্ডষ্টার টাওয়ার (Nordstar Tower) বিজনেস সেন্টারের ছাদে একটি বিশালাকার এম আই ২৬ (Mi-26) হেভি হেলিকপ্টার দিয়ে রাশিয়ার একদম প্যান্টসিরে এসএমডি ই লেটেস্ট (Pantsir-SMD-E) এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম লিফট করে বসানো হয়েছে।
সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, এটি কোনো সাধারণ যুদ্ধযান নয়; এটি কোনো চাকা বা গাড়ি ছাড়াই সম্পূর্ণ 'স্টেশনারি' বা স্থায়ীভাবে এক জায়গায় বসানোর জন্য স্ক্র্যাচ থেকে ডিজাইন করা হয়েছে। আর এর রাডার বিশেষভাবে তৈরি হয়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে আসা ছোট ছোট শত্রু ড্রোন (Drone Swarm) খুঁজে বের করে ধ্বংস করার জন্য।
টানা ড্রোন হামলার মুখে রাশিয়ার টপ বিজনেস লবি সরাসরি ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল যেন বেসরকারি কোম্পানিগুলোও তাদের ফ্যাক্টরি, অয়েল রিফাইনারি বা বিজনেস সেন্টারের সুরক্ষায় ভারি অস্ত্র কিনতে পারে। আইন পরিবর্তন করে এখন সেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে এখানে একটা বড় 'ক্যাচ' বা টুইস্ট আছে। বেসরকারি কোম্পানিগুলো নিজেদের টাকায় এই প্যান্টসিরে এসএমডি ই (Pantsir-SMD-E) সিস্টেমগুলো কিনতে পারবে ঠিকই, কিন্তু নিজেরা অপারেট করতে পারবে না। কেনার সাথে সাথেই এগুলো রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর (Military) অধীনে চলে যাবে। এরপর সেনাবাহিনীর স্পেশাল টিমই ওই নির্দিষ্ট কোম্পানির ভবনের ছাদে বা আঙিনায় অবস্থান নিয়ে ড্রোন হামলা থেকে প্রটেকশন দেবে।
সাধারণ প্যান্টসিরে ৩০ মিমি কামান থাকলেও। শুধু মিসাইল থাকায় ফায়ারিংয়ের সময় কোনো কম্পন (Vibration) হয় না, যা উঁচু ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তার জন্য পারফেক্ট।
কামান না থাকায় ওজনে হালকা এবং এতে একসাথে সর্বোচ্চ ৪৮টি মিনি-মিসাইল (TKB-1055) লোড করা যায়। ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন এলেও একা হাতে সামলাতে পারবে। এর শক্তিশালী রাডার ২৪ কিমি দূর থেকেই আকাশে থাকা একদম ছোট সাইজের ড্রোনও নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করতে পারে।
আধুনিক যুদ্ধ কৌশল এখন রণক্ষেত্র থেকে উঠে এসে শহরের করপোরেট স্কাইস্ক্র্যাপারের ছাদে জায়গা করে নিচ্ছে!
রিয়াদ/ হাফিজ/ আয়না নিউজ