বিশেষ প্রতিনিধি, Md Al Rajib।।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ আবারও নতুন করে বিপজ্জনকভাবে বাতাস লিকের ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে এই নতুন লিকের তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা যা চলতি বছরের শুরুর দিকে সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করা হয়েছিল।
মূলত ২০১৯ সাল থেকে ক্রমাগত বাতাস লিকের সমস্যায় ভুগছে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে কক্ষপথে থাকা এই পুরোনো মহাকাশ স্টেশনটি, যা স্টেশনটির রুশ অংশের ‘পিআরকে’ মডিউল নামক একটি সংকীর্ণ স্থানান্তর টানেলে অবস্থিত।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাকাশ বিজ্ঞান বিষয়ক সংবাদমাধ্যম আর্স টেকনিকা এই সংকটের কথা প্রথম জনসমক্ষে আনে। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে নাসা ঘোষণা করেছিল যে একাধিক পরিদর্শন এবং সিল্যান্ট প্রয়োগের পর পিআরকে মডিউলটি অবশেষে একটি ‘স্থিতিশীল অবস্থায়’ পৌঁছেছে।
গত ১ মে রুশ নভোচারীরা যখন কার্গো আনলোড করছিলেন, তখন নাসা মডিউলটির ভেতরে আবারও বাতাসের চাপ ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করে। মহাকাশ স্টেশনের ভেতরের এই আণুবীক্ষণিক কাঠামোগত ফাটল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক পাউন্ড করে বাতাস মহাশূন্যে হারিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাসার মুখপাত্র জশ ফিঞ্চ।
যদিও এই লিক বর্তমানে মহাকাশ স্টেশনের নিয়মিত কার্যক্রম বা সেখানে থাকা সাতজন নভোচারীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলছে না, তবুও সংস্থার অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এই ত্রুটি যেকোনো সময় একটি ‘বিপর্যয়কর ব্যর্থতা’ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আর্স টেকনিকার তথ্য অনুযায়ী, নাসা মহাকাশ অভিযানের ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে একটি বিশেষ ৫×৫ ‘রিস্ক ম্যাট্রিক্স’ ব্যবহার করে, যেখানে এই রুশ মডিউলের লিকটিকে উচ্চ সম্ভাবনা এবং উচ্চ প্রভাব উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ‘৫’ নম্বর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নভোচারীদের জরুরি ভিত্তিতে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার মতো বিশেষ উদ্ধার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নাসা এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের প্রকৌশলীরা গত অর্ধ দশক ধরে এই লিকের হার ট্র্যাক করছেন। ২০২৪ সালের মধ্যে এই লিকের হার দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় নাসা এটিকে আইএসএস-এর সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগে উন্নীত করেছিল। এই নতুন লিকটি মূলত ২০৩০ সালে অবসরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই পুরনো মহাকাশ স্টেশনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে, যদিও মার্কিন কংগ্রেস এটিকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত সচল রাখার কথা ভাবছিল।
এই ঘটনাটি ২০৩০ সালের মধ্যেই আইএসএস-কে নিরাপদে ফিরিয়ে এনে আরও আধুনিক ও সাশ্রয়ী বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম দিয়ে প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্তকে আরও বেশি যুক্তিযুক্ত করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন নাসার বাণিজ্যিক মহাকাশ উড্ডয়নের প্রাক্তন পরিচালক ফিল ম্যাকঅ্যালিস্টার আর্স টেকনিকা ।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট
আল রাজীব/ আয়না