বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
লন্ডন থেকে ঢাকায় আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। দলের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে লন্ডন নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ঢাকায় আসছেন তিনি। তার সঙ্গে আসছেন তারেক রহমানের মেয়ে জায়মা রহমানও।
আগামীকাল শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর ) সকালে তিনি ঢাকা পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
এদিকে গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য কাতার থেকে পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আগামীকাল শুক্রবারই তাকে নেওয়া হতে পারে। চিকিৎসকসহ মোট ১৪ জন থাকবেন এ যাত্রায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফ করবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে টানা ১২ দিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ৮ দিন তিনি সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তার অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলেও চিকিৎসকদের ডাকে কিছুটা সাড়া দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
মেডিকেল বোর্ডের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, ফুসফুসে স্বাভাবিকভাবে বাতাস চলাচল না করায় তাকে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। কিডনির কার্যক্রম সচল রাখতে বুধবার বিকালেও ডায়ালাইসিস করা হয়।
বুধবার রাতে খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তাকে স্বাগত জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন।
২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্যারামিটারগুলো এখনও ওঠানামা করছে বলে জানিয়েছে মেডিকেল টিম। হৃদযন্ত্র, লিভার, কিডনি ও ফুসফুস—সব ক্ষেত্রেই জটিলতা রয়ে গেছে। একটি অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে অন্যটির অবনতি ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
এদিন দুপুরে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ডাক দিলে খালেদা জিয়া ইশারায় সালামের জবাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।