বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। কুয়াশাচ্ছন্ন বাংলার আকাশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য, উড়তে থাকে চিরগৌরবের লাল-সবুজ পতাকা। লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হয় “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।”
দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক করার আহ্বান জানিয়ে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় ঐক্য পুনর্গঠনের দিন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের নবযাত্রা রক্ষার শপথ নেওয়ার উপলক্ষ।
মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার মধ্য দিয়ে। সেই রাতেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের বীর সন্তানেরা জীবন বাজি রেখে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় এই বিজয়।
আজ ভোরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবারের সদস্য, কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করছে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। রাজধানীসহ সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের গান, আলোচনা সভা, কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস।
আজ জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের।