বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তার আগমন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই বিমানবন্দরের প্রধান গেটগুলোতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে, যাত্রী ছাড়া অন্য কেউ বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে পারছেন না এবং সন্দেহভাজন যাত্রীদের তল্লাশির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি জানায়, পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার প্রায় ২ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে আনসার গার্ডের নিয়মিত সদস্যের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট ও প্যাট্রল ডিউটিতে অতিরিক্ত ব্যাটালিয়ান আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমান লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, তার বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট) এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে বিএনপি। কুড়িল মোড়সংলগ্ন সড়কের উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিশাল মঞ্চ।
বিমানবন্দরে অবতরণের পর ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানাবেন। এরপর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। এরপর সংবর্ধনাস্থলে যাবেন এবং সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখবেন। সেখান থেকে বিমানবন্দর সড়ক ও কাকলী মোড় হয়ে গুলশান-২ নম্বরে নিজ বাসভবনে ফিরবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রেফতার হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন তারেক রহমান। মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান তিনি। একই বছরের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক মামলার কারণে দেশে ফেরা আর সম্ভব হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।