বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
তার মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিএনপি’র পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হচ্ছে এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, দীর্ঘ অসুস্থতার পাশাপাশি খালেদা জিয়া বিভিন্ন আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাকে সর্বশেষ দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস দেয়, যা তাকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ সুগম করেছিল।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে নিউমোনিয়াসহ শারীরিক জটিলতা বেড়ে গেলে তাকে সিসিইউ ও আইসিইউতে রাখা হয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল, গুলশানে তার বাসভবন ও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোকাহত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই নেত্রীর প্রয়াণে দেশ-বিদেশে অসংখ্য মানুষ শোক প্রকাশ করছেন।