বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় কারফিউ জারি করে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার শুরুকে ঘিরে আদালতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বারবার সময় চাওয়াকে মামলাটি বিলম্ব ও মিসগাইড করার চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রোববার (৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী শুনানির শুরুতেই ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত ফোনালাপের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে ভয়েস রেকর্ড ম্যাচিংয়ের আবেদন করেন। তবে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মূর্তাজা মজুমদার এ ধরনের সুযোগ নেই বলে আবেদনটি নাকচ করে দেন।
এ সময় আনিসুল হকের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের পূর্ববর্তী আবেদনের বিষয়ে আদেশ জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনাল জানায়, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি পাওয়ার পর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, প্রসিকিউশন বিচার চায়, আর তারা ন্যায়বিচার চান। এর জবাবে ট্রাইব্যুনালের বিচারক শফিউল আলম মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন—তদন্ত বা ফর্মাল চার্জ দাখিলের সময় কেন বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিচার শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে এ ধরনের আবেদন কেন করা হচ্ছে, তাও জানতে চান তিনি। ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট করে জানায়, আইন অনুযায়ীই বিচার কার্যক্রম চলবে।
পরে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আবেদন জানান। তখন আসামিপক্ষ আরও দুই দিনের সময় চাইলে ট্রাইব্যুনাল জানায়, ইতোমধ্যে একাধিকবার সময় দেওয়া হয়েছে। শেষবারের মতো একদিন সময় দেওয়া হবে বলে জানান চেয়ারম্যান।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আসামিপক্ষ বিভিন্ন সাবমিশনের মাধ্যমে মামলাটি বিলম্বিত করছে। এর আগেই তাদের ১৩ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দেশের মানুষ চায় এবং অন্তর্বর্তী সরকারও সেই প্রত্যাশা পূরণ করতেই ক্ষমতায় এসেছে। অথচ আসামিপক্ষ বিচার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আসামিপক্ষকে শেষবারের মতো দুই দিনের সময় দিয়ে আগামী ৬ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রধান বিচারপতির নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীর মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো কারণে মামলার শুনানি মুলতবি করা যাবে না।
আগামী ৬ জানুয়ারি আসামিপক্ষের শুনানির মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে।