বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
ভেনেজুয়েলায় নিরাপদ ও বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র পালন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ের অংশ এবং দেশটিকে ‘ফিরিয়ে আনা’ ওয়াশিংটনের দায়িত্ব। তার মতে, তেলখাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ছাড়া ভেনেজুয়েলাকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা না মানলে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও নিকোলাস মাদুরোর মতো পরিণতির মুখে পড়তে পারেন।
আল-জাজিরা জানায়, ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো গলফ কোর্স থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। সরকার পরিবর্তন ও রাষ্ট্রগঠনবিরোধী তার আগের অবস্থানের প্রসঙ্গ উঠলে ট্রাম্প বলেন, এটা আমাদের এলাকা—ডন-রো নীতি। আমরা চাই আশপাশের দেশগুলো টিকে থাকুক, সফল হোক এবং তেল নির্বিঘ্নে বাইরে আসুক।
ভেনেজুয়েলাকে ‘মৃত দেশ’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, অবকাঠামো পুনর্গঠনে তেল কোম্পানিগুলোর বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজে সরাসরি কোনো বিনিয়োগ করবে না; বরং দেশটির ‘দেখভাল’ করবে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ভেনেজুয়েলান নাগরিকদের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা অনুসরণ না করলে তার পরিণতিও মাদুরোর মতো হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
কিউবা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটি ‘নিজেই পড়ে যাবে’, যদিও সেখানে ভেনেজুয়েলার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি।
এদিকে, একই বিমানে উপস্থিত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রেসিডেন্টের অবস্থানের সমর্থন জানিয়ে বলেন, অন্য কোনো সামরিক বাহিনী এভাবে মাদুরোকে জীবিত আটক করতে পারত না। কিউবাকে ‘কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র’ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশটির সময়ও ফুরিয়ে আসছে।