বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না এক্সিবিশন সেন্টারের স্থায়ী প্যাভিলিয়নে অনুষ্ঠিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে ক্রেতা ও দর্শনার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে। মেলার চতুর্থ দিনে প্রত্যাশিত বেচাকেনা না হওয়ায় হতাশায় সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শীতের প্রকোপে মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল খুবই কম। অধিকাংশ স্টলেই বিক্রেতা ও কর্মচারীদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। ক্রেতা না থাকায় অনেক স্টল মালিক আশঙ্কা করছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৩২৭টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নববী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোয়াসসেল মিয়া বলেন, মেলার শুরু থেকেই তীব্র শীত পড়েছে। এর ফলে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা একেবারেই কম। শীত না কমলে ব্যবসায় বড় ধরনের ভাটার আশঙ্কা রয়েছে।
দিল্লি অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরি লিমিটেডের পরিচালক ওসমান গনি বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও আমরা মেলায় অংশ নিয়েছি। তবে এবার ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৩ জানুয়ারি মেলার উদ্বোধন হয়েছে। তীব্র শীতের কারণে ক্রেতা প্রায় নেই বললেই চলে।
ইন্ডিয়ান ফুটওয়্যারের সেলিম আহমেদ বলেন, অনেক টাকা খরচ করে স্টল নিয়েছি। কিন্তু শীতের কারণে মানুষ মেলায় আসছে না। বেচাকেনা না বাড়লে লোকসানে পড়তে হবে।
হোমট্যাক্সের প্রতিনিধি নাদিয়া খানম জানান, শীতের কারণে বিক্রি একেবারে কমে গেছে। দিনে কিছু মানুষ এলেও বিকেলের দিকে মেলা প্রাঙ্গণ প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। শীতের প্রকোপ কমলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ও ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পরিচালক তরফদার সোহেল রহমান বলেন, শৈত্যপ্রবাহের কারণে মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম। তবে সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী। ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।