বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখারপুলে ছয় শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। নতুন করে আগামী ২৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তারিখ পেছানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ২০ জানুয়ারি দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং চারজন পলাতক। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন— শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম। মঙ্গলবার সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ।
পলাতক চার আসামি হলেন— ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২৩ কার্যদিবসে তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। সাফাই সাক্ষ্য হিসেবে আরশাদ হোসেনসহ আরও তিন আসামির জবানবন্দি নেওয়া হয়। পরে শুরু হয় যুক্তিতর্ক।
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়ে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
গত বছরের ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ জবানবন্দি দেন। পর্যায়ক্রমে নিহতদের পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়ে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা চাইলেও আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বেকসুর খালাস দাবি করেছে। গ্রেপ্তার চার আসামি নিজেদের খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালালে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।