বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
মিয়ানমারে বিয়ের অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলকে লক্ষ্য করে পৃথক বিমান হামলা চালিয়েছে সামরিক জান্তা বাহিনী। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাচিন রাজ্যের ভামো টাউনশিপের কাউং জার গ্রামে একটি দোয়া মাহফিল চলাকালে বিমান হামলা চালানো হয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) জানায়, এতে অন্তত ২২ জন শোকাহত ব্যক্তি নিহত হন এবং শিশুসহ অন্তত ২৮ জন আহত হন। গ্রামটি যুদ্ধাহত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত এবং এটি ইরাবতী নদীর অপর পাশে ভামো শহরের কাছে অবস্থিত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তার স্মরণে দোয়া মাহফিলের প্রস্তুতির জন্য একটি বাড়ির আঙিনায় মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ঠিক সেই সময়ই হামলা চালানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বাড়ির ভেতর ও আঙিনায় নারী-পুরুষের মরদেহ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকের শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত ছিল।
কেআইএর মুখপাত্র কর্নেল নও বু দাবি করেন, ওই গ্রামে কেআইএর কোনো অবস্থান বা সদস্য ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, জান্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবেই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তার ভাষায়, “তারা শত্রু ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। স্কুলসহ যেকোনো ভিড়ের ওপর তারা বোমা ফেলছে।”
এর আগে একই দিনে মাগওয়ে অঞ্চলের আউংলান টাউনশিপের তাট কোনে গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিকালে আরেকটি বিমান হামলা চালানো হয়। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংগঠন আউংলান ইনফরমেশন গ্রুপ জানায়, ওই হামলায় এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন।
উল্লেখ্য, এর আগেও জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও ও পন্নাগিউন টাউনশিপ সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি (এএ) পরিচালিত একটি কারাগারে বিমান হামলায় আটক ২১ জন জান্তা সেনা ও তাদের স্বজন নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছিলেন।