বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় তুষারপাত ও বরফ জমে বাতিল করা হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তত এক ডজন অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) থেকে ঝড়টি তীব্র আকার ধারণ করে। বার্তাসংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ কোটি মানুষ—অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি—শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার আওতায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণ রকি পর্বতমালা থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত এলাকায় ভারী তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি ও বৃষ্টি হতে পারে। সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে যে, তীব্র শীত কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন স্যান্টোরেলি বলেন, তুষার ও বরফ ধীরে গলবে, ফলে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে টেক্সাস, লুইজিয়ানা, নিউ জার্সি, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ লাইনের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার বাড়িঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টেক্সাসের শেলবি কাউন্টিতে বরফের ভারে গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে যায়, ফলে কাউন্টির এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন।
শেলবি কাউন্টির কমিশনার স্টিভি স্মিথ বলেন, “শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে, রাস্তায় ডালপালা ছড়িয়ে আছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া খুব কঠিন।”
এদিকে ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় বিমানবন্দরগুলোতে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার মিলিয়ে প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ডালাস-ফোর্ট ওর্থ, শিকাগো, আটলান্টা, ন্যাশভিল, শার্লট এবং ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রিগ্যান জাতীয় বিমানবন্দর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল বলেন, “আমরা এমন এক ঝড়ের মুখোমুখি হচ্ছি, যা বহু বছর দেখা যায়নি।” তিনি ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং মহাসড়কে সর্বোচ্চ গতি সীমা নির্ধারণের ঘোষণা দেন।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় বরফের ক্ষয়ক্ষতি হারিকেনের সমান হতে পারে। মিডওয়েস্ট অঞ্চলে অনুভূত তাপমাত্রা নেমে এসেছে মাইনাস ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে, যেখানে মাত্র ১০ মিনিটেই ফ্রস্টবাইট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
পরিস্থিতির কারণে ফিলাডেলফিয়া ও হিউস্টনে সোমবার স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয় ও মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বাতিল করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, “সম্ভব হলে বাইরে বের হবেন না। ঘরে থাকাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ।”