বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী দুটি বিকল্প পথ খোলা রয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়ে কোনো সময়ক্ষেপণ করবে না।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সাধারণত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ গ্রহণ করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাবেক স্পিকার পলাতক এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় তাদের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা এবং পদত্যাগের বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
আইন উপদেষ্টা জানান, এই প্রেক্ষাপটে সংবিধানে বর্ণিত বিকল্প ব্যবস্থাগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। একটি বিধান অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে রাষ্ট্রপতি যে কোনো ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর জন্য মনোনীত করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির মতো উচ্চপদস্থ কোনো সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তি, সম্মতি দিলে, এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের আরেকটি বিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের পর তিন দিনের মধ্যে যদি কোনো কারণে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।
নতুন সংসদের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার ওপর জোর দিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, সরকার সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য যেকোনো পথ বেছে নিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যাতে অযথা বিলম্ব না হয়।
তিনি জানান, শপথ আয়োজনের বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিক মতামত উপস্থাপনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনায় রয়েছে।