বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার ( ১২ ফেব্রুয়ারি ) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রের লাইনে অবস্থান করছিলেন, তারা নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। তবে এর পর নতুন করে কাউকে লাইনে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। রাজধানীর একটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, “বিকাল ৪টার পর নতুন ভোটার লাইনে দাঁড়াতে পারবেন না, তবে সময়ের মধ্যে লাইনে থাকা সবার ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।”
রাজধানীর গুলশান-বনানী ও ধানমণ্ডি এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে নারী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ।
দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বেলা ১১টার মধ্যেই অনেক কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট কাস্টিং সম্পন্ন হয়। বনানীর ৫১ নম্বর কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৩ হাজার ৫১০ ভোটারের মধ্যে ৭৯৫ জন ভোট দেন, যা মোট ভোটের প্রায় ২২ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে নির্বাচন স্থগিত থাকলেও বাকি আসনগুলোতে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২৭৫ জন।
দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন, ইসলামী আন্দোলন ২৫৮ জন, জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন এবং জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন প্রার্থী দেয়। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ জন প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
দেশের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এছাড়া ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োজিত ছিলেন।
সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার দৃষ্টি ফলাফল ঘোষণার দিকে।