বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পথ সুগম করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দলটি ১৫০টির বেশি আসনে জয় পেয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে নতুন সরকার গঠন এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে কীভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে এবং কে শপথ পড়াবেন—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
শপথ কবে?
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। বেসরকারি ফল প্রকাশের পরই শপথের বাধ্যবাধকতা শুরু হয় না; আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশই এখানে মূল বিষয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শপথ হতে পারে এবং ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
স্পিকার নেই, শপথ পড়াবেন কে?
অতীতে জাতীয় সংসদের স্পিকারই নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়াতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ ও স্পিকার না থাকায় দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে দুটি বিকল্পের কথা বলা হয়েছে—
১. রাষ্ট্রপতি শপথ পড়ানোর জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন।
২. যদি তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, সরকার দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর চায়। রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি—যেমন প্রধান বিচারপতি—শপথ পড়াতে পারেন। তা সম্ভব না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী তিন দিন অপেক্ষার বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে।
সরকার গঠন করবেন কে?
সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যে সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতীয়মান হবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন।
অর্থাৎ ১৫১ বা তার বেশি আসনে জয়ী দল বা জোটের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন রাষ্ট্রপতি। তিনি প্রথমে সংসদ নেতা নির্বাচিত হবেন এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।
ক্ষমতা হস্তান্তর কীভাবে?
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবেন। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর থেকেই তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত বলে বিবেচিত হবেন। এর মাধ্যমেই পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে নতুন সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন-পরবর্তী প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে ছয় দিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এখন নজর গেজেট প্রকাশ ও শপথ আয়োজনের দিকে।