বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়।
প্রথমে রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি নীরব শ্রদ্ধা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা জানান। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর (বিএনপি) শীর্ষ নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ নির্বাচন কমিশনাররা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিন বাহিনীর পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশি সংস্থার প্রধানরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
‘একুশ এবার মুক্ত’ মির্জা ফখরুল
শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতাকলে একুশ ছিল অবরুদ্ধ, এবার সেই একুশ মুক্ত।” তিনি বলেন, নতুন নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। গণতন্ত্র, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে নামা ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
রক্তস্নাত ঐতিহাসিক এই দিনে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সরকারি ছুটির দিন হিসেবে আজ দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং উত্তোলন করা হয়েছে কালো পতাকা।
বাঙালি জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার শপথ পুনর্ব্যক্ত করছে।