বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো ইউক্রেনকে দুই দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউক্রেন যদি তার ভূখণ্ড দিয়ে রুশ তেলের প্রবাহ পুনরায় শুরু না করে, তাহলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ফিকো ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেন, সোমবারের মধ্যে সোভিয়েত আমলের ড্রুঝবা পাইপলাইন দিয়ে রুশ অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পুনরায় শুরু না হলে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এসইপিএসকে ইউক্রেনে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হবে।
ফিকোর অভিযোগ জেলেনস্কি স্লোভাকিয়ার প্রতি দুরভিসন্ধিমূলক আচরণে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি পাঁচ বছর মেয়াদি গ্যাস ট্রানজিট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেন রুশ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় স্লোভাকিয়ার বছরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৫৮৯ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতি হচ্ছে। জেলেনস্কির আচরণকে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ইউক্রেনের জন্য সাম্প্রতিক ৯০ বিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ১০৫ বিলিয়ন ডলার) সামরিক ঋণে স্লোভাকিয়াকে জড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান একদম সঠিক সিদ্ধান্ত।
ড্রুঝবা পাইপলাইন দিয়ে রুশ তেলের প্রবাহ গত জানুয়ারির শেষের দিকে বন্ধ হয়ে গেলে ইউক্রেন জানায় রুশ ড্রোন হামলায় পাইপলাইনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর থেকে স্লোভাকিয়া ও প্রতিবেশী হাঙ্গেরি কিয়েভের প্রতি ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে চলেছে কারন দুই দেশই রুশ তেলের ওপর নির্ভরশীল। এদিকে রুশ হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্লোভাকিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী। গত মাসে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতের রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির ১৮ শতাংশ এসেছে স্লোভাকিয়া থেকে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি যুদ্ধকালীন ইউরোপীয় জোটের নতুন ফাটল সৃষ্টির ইঙ্গিত।