বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই দুই দিনের সফরে ইসরায়েল যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শুরু হচ্ছে তার এই সফর। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন তীব্র বিভাজন চলছে, তখন মোদির এ সফর কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সফর করে ইতিহাস গড়েছিলেন মোদি। এবার তার সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন গাজায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং মানবিক সংকট গভীরতর হচ্ছে। ফলে এই সফরকে কেবল দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং ভারতের পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মোদির সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, উন্নত প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। গত এক দশকে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান বরাবরই ফিলিস্তিনপন্থী। স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে ছিলেন। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘে ফিলিস্তিন বিভাজন পরিকল্পনার বিরুদ্ধেও ভোট দেয় ভারত। যদিও ১৯৫০ সালে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে দিল্লি অপেক্ষা করে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। সে সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পি ভি নরসিমা রাও। এর আগে ১৯৭৪ সালে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন-কে স্বীকৃতি দেয় ভারত।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি, কৃষি প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত এখনো দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে।
গাজা পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সতর্ক। দিল্লি সরাসরি ইসরায়েলের সমালোচনায় না গেলেও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। পশ্চিম তীর ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও গাজা প্রশ্নে ভাষা পরিমিত রেখেছে ভারত।
মোদির সফর নিয়ে বিরোধী দল কংগ্রেস সমালোচনা করেছে। দলটির এক সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে ইসরায়েল সফরের সময় গাজায় চলমান পরিস্থিতির বিষয়টি উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে কংগ্রেস এমপি ইমরান মাসুদ বলেন, গাজায় শিশুদের মৃত্যুর বিষয়ে ভারতের নৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।
বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, ভারত এখন বহুমাত্রিক কূটনীতির পথে হাঁটছে। ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও আরব দেশগুলোর সঙ্গেও ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে দিল্লি। মোদির এবারের সফর সেই কৌশলেরই অংশ কিনা, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।