বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
ইরানের সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরানর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ।
রোববার সকালে সরকারিভাবে তেহরান খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করার পর এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তার জন্য শোকাহত। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে আমাদের মহান নেতার শাহাদাৎ বরণ প্রমাণ করে যে তার ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেম তাদের জন্য আতঙ্কজনক হয়ে উঠেছিল। যাদের হাতে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন তাদের এই জাতি ছাড়বে না। ইরান প্রতিশোধ নেবে এবং আইআরজিসি দেশি-বিদেশি যে কোনো ষড়যন্ত্র-কে নির্মূল করতে বদ্ধ পরিকর।”
গতকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর গতকাল রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করলে রোববার সকালে সরকারিভাবে খামেনি নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে ইরান।
ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ছিলেন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে খামেনির প্রভাব ছিল গভীর এবং সর্বব্যাপী।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলোর বিপ্লবে নেতৃত্ব দেয়া আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ১৯৮৯ সালে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মৃত্যু বরন করেন খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।