বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইস্রায়েলের মধ্যে সংঘাত নতুন এবং বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইস্রায়েলি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান থেকে একের পর এক মিসাইল ইস্রায়েলের দিকে ছোঁড়া হচ্ছে। ইস্রায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে এসব প্রতিহত করছে।
ইস্রায়েলি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে, তারা যখনই সতর্ক সংকেত পান, নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সেখানেই থাকুন। এ পরিস্থিতিতে কাতার এয়ারওয়েজসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতেও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। কুয়েতে একটি মার্কিন ‘এফ-১৫’ ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হয়েছে। কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে ধ্বংসাবশেষ পড়েছে এবং দুই শ্রমিক আহত হয়েছে। কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননে ইস্রায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন। ইস্রায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক অভিযান’ ঘোষণা করেছে এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ঘাঁটিতে একটি শাহেদ ড্রোন আঘাত হেনেছে, তবে তাতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরানেও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সানান্দাজে মিসাইল হামলায় দুজন নিহত হয়েছে এবং তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণে ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মিনায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্য করে হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
ইরান ঘোষণা করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না এবং কেবল আত্মরক্ষা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের নেতৃত্ব এখন স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তবে মাঠপর্যায়ে সংঘাত ক্রমশ জটিল হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা লাইভ