বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকেলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে অস্থায়ী মার্কিন অপারেশন সেন্টারে সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, হামলায় কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরের একটি ‘কৌশলগত অপারেশন সেন্টার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেন্দ্রটি সুরক্ষিত থাকলেও একটি ইরানি প্রজেক্টাইল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে সরাসরি আঘাত হানে।
অপারেশন সেন্টারটি ছিল একটি তিনগুণ প্রশস্ত ট্রেলার, যার ভেতরে অফিস স্পেস ছিল। রোববার সকাল ৯টার পর হামলাটি এতটাই দ্রুত ও আকস্মিক ছিল যে, কোনো সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজেনি। ফলে সেখানে অবস্থানরত সেনারা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বা বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী। হামলায় বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের দেয়ালগুলো বাইরের দিকে উড়ে যায়। ভেতরের অংশ কালো হয়ে আগুন জ্বলছিল এবং দেয়ালের কিছু অংশ ভবনের কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে তিনজন সেনা নিহতের কথা জানিয়েছিল সেন্টকম। বিস্ফোরণের পর ভবনের কিছু অংশে আগুন জ্বলতে থাকায় বাকি সেনাদের উদ্ধার করতে সময় লাগায় সোমবার বিকেলে আরও তিন জনের মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়ে দাঁড়িয়েছে। নিহত সেনাদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে তাদের পরিবারকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
গত শনিবার ভোরে থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযানে প্রথম এই ছয়জন সেনাসদস্য প্রাণ হারালেন। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই সতর্ক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান চলাকালে এখন পর্যন্ত ১৮ জন সেনাসদস্য গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।