বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রাম ইর্কায় আকাশ থেকে নেমে আসা এক মরণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো সতর্কতা ছাড়াই মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এক পরিবারের সব আনন্দ। গত পরশু যেখানে ছিল শৈশবের হাসিতে মুখরিত আঙিনা, বৃহস্পতিবার সেখানে শুধু কান্নার রোল আর লাশের সারি।
চার বোন জয়নব,জোহরা,মালিকা এবং ছোট্ট ইয়াসমিনা বুধবার বিকেলে তাদের বাড়ির উঠানে একসঙ্গে খেলছিল। অতর্কিত ইসরায়েলি বিমান হামলায় কোনো সতর্কতা ছাড়াই কেড়ে নিল তাদের প্রাণ। এই চার বনের সঙ্গে মারা গেছেন তাদের দাদা-দাদি, দুই চাচা এবং এক চাচাতো ভাই। এক নিমেষেই পরিবার থেকে হারিয়ে গেলেন পরিবারের মোট ৯ জন সদস্য।
সকালে অ্যাম্বুলেন্স থেকে সাদা কাফনে মোড়ানো দেহগুলো নামানোর সময় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে স্বজনদের গগনবিদারী চিৎকারে। জীর্ণশীর্ণ একটি চাদরের ভেতরেই ছিল দুটি ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহ। সন্তানদের শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরার জন্য মা সুজান তাকি কবরে নামেন। চার বোনকে তাদের দাদা-দাদি আর চাচাদের পাশেই সারি বেঁধে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।
সন্তানদের মাটি দেওয়ার পর হামলায় আহত ব্যান্ডেজে মোড়ানো মুখ নিয়ে চার কন্যার বাবা মোহাম্মদ রিদা তাকি গণমাধ্যমকে জানান তার ছোট মেয়ে ইয়াসমিনার শেষ আবদার ছিল তার গলায় এমন একটি নেকলেস থাকবে যেখানে তার নিজের নামের বদলে লেখা থাকবে ‘বাবার আত্মা’। মেয়ের একমাত্র স্মৃতিচিহ্ন যা ধ্বংসস্তূপের নিচে পাগলের মতো খুঁজে বেরাচ্ছেন হতভাগা বাবা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বৃহস্পতিবার পুরো দক্ষিণ লেবানন খালি করার নির্দেশ দিলেও এই নির্দিষ্ট হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি।