বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
এবারের অমর একুশে বইমেলা ১৮ দিনব্যাপী আয়োজন শেষ করেছে। মেলা পরিচালনা কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৬৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৭ দিনে বই বিক্রি হয়েছে মোট ৮ কোটি টাকা। মেলা পরিচালনা কমিটির হিসাব অনুযায়ী, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসহ ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি টাকা।
বাংলা একাডেমি ১৭ দিনে ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই বিক্রি করেছে। সব প্রতিষ্ঠানের বই মেলার স্টলে ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে।
এবারের মেলায় নতুনভাবে ১ হাজার ৭৭১টি বই তথ্যকেন্দ্রে জমা হয়েছে, তবে প্রকাশিত সব বই তথ্যকেন্দ্রে জমা না হওয়ার কারণে প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি। নিবন্ধিত মোট মোড়ক উন্মোচিত বইয়ের সংখ্যা ২৫২টি।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজা রোববার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানান, মেলা নিছক বাণিজ্যিক নয়, এটি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিলন মেলা।
এ বছর মেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১০৬৮ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১১১টি স্টল বরাদ্দ করা হয়েছে। শিশু চত্বরে আবৃত্তি, সংগীত ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পাপেট শো এবং বায়োস্কোপের আয়োজন করা হয়।
মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিশেষ অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
২০২৫ সালের বইমেলার তুলনায় এবারের বিক্রি কমেছে। ২০২৪ সালে ৬০ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে ৪৭ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। মেলার সময়ও ২৮ দিন থেকে কমিয়ে ১৮ দিন করা হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রোজার কারণে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ ফেব্রুয়ারি মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত আটজন লেখকের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।