বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক সেজ্জিল-২ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ নামে পরিচিতি পাওয়া সেজ্জিল। ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ১৬তম দিনে গতকাল রোববার প্রথমবারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করা একটি শক্তিশালী মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সেজ্জিল। ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ ছাড়াও এই সেজ্জিলের আরও দু’টি নাম আছে সাজ্জিল এবং আশুরা। এই ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ ২০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দুই স্তরের ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ৭০০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে। সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণনের সময় তরল জ্বলানির পরিবর্তে ‘সলিড জ্বালানি’ ব্যবহার করা হয় এবং এটির হাই-অল্টিচ্যুড ম্যানুয়েভারিং সক্ষমতার জন্য একে নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্যান্সিং মিসাইল বলা হয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনারল স্টাডিজের তথ্য অনুসারে, সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের দৈর্ঘ ১৮ মিটার (প্রায় ৫৫ ফুট), ব্যাস ১ দশমিক ২৫ মিটার (প্রায় সাড়ে ৪ ফুট) এবং ওজন ১২ হাজার ৬০০ কেজি। নব্বইয়ের দশকে ইরান সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করলে তা শেষ হয় ২০০৮ সালে এবং সে বছরই প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয় ক্ষেপণাস্ত্রটি। সেজ্জিলের দু’টি সংস্করণের মধ্যে গতকাল রোববার সেজ্জিল-২ নিক্ষেপ করেছে ইরান।