দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগামী ৩ মে থেকে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এছাড়া ১২ মে থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশাল জেলায়ও টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে তা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।
দেশে হামের (মিজলস) প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে হাম প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আজ থেকে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে। আগে টিকা নেওয়া থাকলেও এই ক্যাম্পেইনে আবারও টিকা নিতে পারবে শিশুরা।
দেশে ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সের সব শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (৫ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
গত ১৯ দিনে সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৫ হাজার ৭৯২ জন। শুক্রবার (৩এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশজুড়ে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি (অর্জিত ও নৈমিত্তিক) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই নিয়মিত টিকা গ্রহণ করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। অভিভাবকদের শিশুদের জ্বর দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতের মতো বেড়েছে হাম। আকস্মিকভাবে হাম দেখা দেয়ায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার বলে জানালেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এ বিষয়ে আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি ছিল না বলেও তিনি জানান।
বিশ্ব অটিজম দিবস আজ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) “অটিজম ও মানবতা প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে” প্রতিপাদ্যে পালিত হচ্ছে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস
রাজশাহী, নাটোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও কুষ্টিয়া জেলায় হামের সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, যা জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত এক মাসে ৩০৪ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। মৃতুর একটি বড় কারণ আইসিইউ শয্যা ও ভেন্টিলেটরের তীব্র সংকট।
ঢাকা, রাজশাহী ও মানিকগঞ্জে ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শিগগিরই আরও ১২টির বেশি ভেন্টিলেটর সরবরাহ করবে। এসব সরঞ্জাম হামের সংক্রমণ মোকাবেলায় স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
রাজধানীর আসাদগেট থেকে শ্যামলী রিং রোড পর্যন্ত এলাকার সব ক্লিনিক আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিদর্শন করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। আপাতত উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে