মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বড় ধাক্কা লেগেছে পাকিস্তানে। এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে দেশটি, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঘোষিত নতুন দামে পাকিস্তানে পেট্রোলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৩৭ রুপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫৮.৪ রুপিতে, যা প্রায় ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি। একইসঙ্গে হাই-স্পিড ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৮৫ রুপি বেড়ে ৫২০.৩৫ রুপিতে পৌঁছেছে, যা ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এছাড়া কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৩৪ রুপি বাড়িয়ে ৪৬৮ রুপি এবং লাইট ডিজেল অয়েলের দাম ৩০ রুপি বাড়িয়ে ৩৯৫ রুপিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৬ মার্চও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৫৫ রুপি বাড়ানো হয়েছিল।
পাকিস্তানের জ্বালানিমন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সরকারকে বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
তবে এই পরিস্থিতিতে নিম্নআয়ের মানুষ, কৃষক, মোটরসাইকেল চালক এবং গণপরিবহন খাতকে সহায়তা দিতে সীমিত ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান তার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরশীল। প্রধানত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা এই তেল হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আসে। ফলে এ পথের সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও দেশের জ্বালানি বাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ, পণ্যের দাম এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।