আজ ইস্টার সানডে। বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে। যিশুখ্রিস্টের পুনরুত্থানের স্মরণে পালিত এই পবিত্র দিনটি বিশ্বাসীদের কাছে নতুন জীবন, আশা ও পুনর্জাগরণের প্রতীক।
খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশুখ্রিস্ট গুড ফ্রাইডেতে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং তৃতীয় দিনে, অর্থাৎ রোববার তিনি মৃত্যুকে জয় করে পুনরুত্থিত হন। এই ঘটনাকেই ইস্টার সানডে হিসেবে উদযাপন করা হয়। খ্রিস্টধর্মের মূল ভিত্তি যিশুর আত্মত্যাগ ও পুনরুজ্জীবন এই দিনটিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইস্টার উপলক্ষে কয়েকদিনব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গির্জাগুলোতে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ উপাসনা, যেখানে যিশুর ত্যাগ ও মানবতার প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা স্মরণ করা হয়।
ইস্টারের তারিখ প্রতি বছর নির্দিষ্ট থাকে না। সাধারণত ২১ মার্চের পর প্রথম পূর্ণিমার পরবর্তী রবিবার এই উৎসব পালিত হয়, যা গ্রেগরিয়ান ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি ইস্টার ঘিরে রয়েছে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনও। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ইস্টার এগ’—রঙিন ডিম, যা নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে বিতরণ করা হয়। আধুনিক সময়ে চকোলেট দিয়ে তৈরি ডিমও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া শিশুদের আনন্দ দিতে ‘ইস্টার বানি’ সেজে ঘুরে বেড়ানো এবং ডিম খোঁজার মতো খেলাধুলার আয়োজন করা হয় বিভিন্ন স্থানে।
সব মিলিয়ে, ইস্টার সানডে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং এটি মানুষের মাঝে ভালোবাসা, ত্যাগ ও নতুন আশার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।