নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় নিজ ঘর থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পরিবারের আট সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতদের ঘরের দেয়ালে রহস্যজনক একটি বার্তাও লেখা পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘নমির তুই বেঁচে গেলি, দলিল দে।’
নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) এবং মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে ফজরের নামাজের পর বাড়ির দরজায় রক্ত দেখতে পান হাবিবুরের বাবা নমির হোসেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে চারজনের নিথর দেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহগুলো রক্তাক্ত অবস্থায় চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পরে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
আরও পড়ুন :
বাবা-ছেলের নৃশংসতা: শ্যালকের পরিবারের ৪ জন খুন, গ্রেফতার ৩
নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। আর দুই শিশুর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নমির হোসেন হলেন নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে ফজরের নামাজের পর ছেলের ঘরের দরজায় রক্ত দেখতে পান নমির হোসেন। বিষয়টি তার সন্দেহজনক মনে হয়। ভেতরে ঢুকে তিনি দেখেন ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫), পুত্রবধূ পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩) এর নিথর দেহ বিছানায় পড়ে আছে। রক্তাক্ত দেহগুলো বিছানার চাদর দিয়ে ঢাকা।
নমির হোসেনের দাবি, ঘরের দেয়ালে লেখা ছিল “নমির তুই বেঁচে গেলি, দলিল দে। এবার তোলপাড়।” তিনি জানান, তার ছয় সন্তানের মধ্যে হাবিবুর একমাত্র ছেলে ছিলেন। জমিজমা নিয়ে পরিবারের এক মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে হাবিবুরের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল এবং এ নিয়ে একাধিক মামলা ও থানায় অভিযোগও ছিল।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
আরও পড়ুন :
নওগাঁর চার খুন: তদন্তে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
এদিকে ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে পরিবারের আট সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এখনো হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সোমবার রাতে গরু বিক্রি করে তিনি প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরে সেই টাকা ও ঘরের স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ