ঈশ্বরদী সরকারী কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় কলেজ প্রাঙ্গণে থাকা ছাত্রদলের একটি কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরকে ঘিরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এর প্রতিবাদে বুধবার সকালে ছাত্রশিবিরও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সকাল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো।
বিক্ষোভ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে গুলিবর্ষণের অভিযোগও উঠে, যেখানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা দাবি করেন, তাদের মিছিল লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনা প্রসঙ্গে ছাত্রদল কলেজ শাখার সভাপতি খালেদ বিন প্রার্থী বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে কোনো নৈরাজ্য চাই না। বহিরাগতদের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে—এমন তথ্য আমাদের কাছে ছিলো, তাই আমরা প্রতিরোধ করেছি।
অন্যদিকে ছাত্রশিবির কলেজ শাখার সভাপতি সজীব হাসান বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রদল বাধা দেয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে তারা গুলিও চালায়।
ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন জানান, রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য উভয় পক্ষই অনুমতি নিয়েছিল এবং চলমান ইনকোর্স পরীক্ষার কারণে দুপুর ১২টার পর কর্মসূচির সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের উপস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সবসময় সম্ভব হয় না।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। কলেজে চলমান পরীক্ষার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কোনো মামলা দায়ের হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসান/ হাফিজ/ আয়না নিউজ