পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি বা ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রকল্প এলাকায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি এটিকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচভ। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসির পূর্বে ধারণকৃত বক্তব্যও প্রদর্শন করা হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।
রূপপুর প্রকল্পে মোট দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ ক্ষমতায় চালু হলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণে সহায়ক হবে।
প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, ইতোমধ্যে ৫২ জন প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত অপারেটর প্রস্তুত রয়েছে, যারা রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্র পরিচালনা করবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি উৎসের দিকে এগিয়ে যাবে, যা দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ