বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের এই সময়ে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পাশে থাকতে চায়। কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও সুশাসন খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বেইজিং প্রস্তুত রয়েছে। এমনটাই বললেন, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে চীন সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর এবং দুই দেশের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকে তিনি সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন সব সময় দৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাবে। একই সঙ্গে ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসিক হল নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে চীন কাজ করছে।
শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দুটি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার বাংলাদেশিকে চীনের ভিসা দেওয়া হয়েছে এবং বছর শেষে এ সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ৪৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।
আগামী জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ আরও সুদৃঢ় হবে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ