| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

করের আওতায় আসছে মোটরসাইকেল, বছরে কত দিতে হবে?

  • আপডেট টাইম: 12-05-2026 ইং
  • 82407 বার পঠিত
করের আওতায় আসছে মোটরসাইকেল, বছরে কত দিতে হবে?

দেশে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিসিভেদে মোটরসাইকেলের ওপর বছরে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর নেয়া হলেও এবার প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সোমবার বাজেটসংক্রান্ত এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কোনো আয়কর দিতে হবে না। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে দুই হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হতে পারে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে ১১০ সিসি বা তার কম মোটরসাইকেল বাদ দিলে প্রায় ৩৮ লাখ মোটরসাইকেল করের আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারি হিসাবে, গড়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে চার হাজার টাকা করে কর আদায় করা গেলে বছরে প্রায় এক হাজার ৫২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হতে পারে।

বর্তমানে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন ফি এবং দুই বছর পরপর রোড ট্যাক্স দিতে হয়। ৫০ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ৯ হাজার ২৯১ টাকা এবং প্রতি দুই বছর পরপর এক হাজার ১৫০ টাকা রোড ট্যাক্স দিতে হয়। অন্যদিকে ১২৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ১১ হাজার ৭৬৪ টাকা এবং প্রতি দুই বছর পরপর দুই হাজার ৩০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়।

গত এক দশকে দেশে মোটরসাইকেল শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে। হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি, বাজাজ ও টিভিএসের বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল দেশে সংযোজন করা হচ্ছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

তবে খাতসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হলে মোটরসাইকেলের বিক্রি ও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

হোন্ডার চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মো. আশেকুর রহমান বলেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই কম ও মধ্যম আয়ের মানুষ। তাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ পড়লে মোটরসাইকেলের বিক্রি কমে যেতে পারে। তবে উচ্চমূল্যের বাইক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এ কর বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, যানবাহনের মালিকদের প্রতিবছর ফিটনেস নবায়নের সময় নির্ধারিত হারে অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করতে হয়, যা পরে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। একই সুবিধা মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিকরাও পাবেন বলে জানা গেছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অগ্রিম কর পরিশোধ সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। তবে যার মোটরসাইকেল কেনার সক্ষমতা আছে, তার কর দেওয়ার সামর্থ্যও থাকার কথা। রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে সরকার এ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

হাফিজ/ আয়না নিউজ


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪