| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে ঢাকায় নানা কর্মসূচি, আলোচনায় নারী খামারিদের অবদান

  • আপডেট টাইম: 01-06-2026 ইং
  • 6914 বার পঠিত
বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে ঢাকায় নানা কর্মসূচি, আলোচনায় নারী খামারিদের অবদান

১ জুন (সোমবার): আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। ২০০১ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) দিবসটি ঘোষণা করে। সেই থেকে বৈশ্বিক খাদ্য হিসেবে দুধের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

দুধ শুধু একটি পুষ্টিকর খাদ্য নয়; এটি কৃষি, জনস্বাস্থ্য, গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন এবং নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এবারের ২০২৬ সালের বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য “সেলিব্রেটিং উইমেন ফার্মার্স” যেখানে নারী খামারিদের অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাকায় দিনব্যাপী কর্মসূচি

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে “দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারি, উন্নয়নের অগ্রযাত্রা” শীর্ষক আলোচনা সভা, র‍্যালি ও দুধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (KIB)-এ দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সকালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ করেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি অধিদপ্তর প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে খামারবাড়ি মোড় হয়ে কেআইবি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।

দুগ্ধ খাতে নারীর ভূমিকা

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের দুগ্ধ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। গবাদিপশু পালন, দুধ দোহন, বাছুরের পরিচর্যা, গোয়ালঘর পরিষ্কার ও প্রাথমিক চিকিৎসা—এ ধরনের দৈনন্দিন কাজের প্রায় ৬০ থেকে ৯০ শতাংশই নারীরা সম্পন্ন করেন।

নারীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ শুধু দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করছে না, বরং পারিবারিক আয় বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জাতীয় দুধ উৎপাদনের চিত্র

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে দেশে মোট দুধ উৎপাদন হয়েছে ১৫৫.৩৮ লাখ মেট্রিক টন। একই সময়ে জাতীয় চাহিদা ছিল ১৬২.২২ লাখ মেট্রিক টন। ফলে দেশীয় উৎপাদন দিয়ে প্রায় ৯৬ শতাংশ চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়েছে।

এ সময়ে মাথাপিছু দৈনিক দুধ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ২৫০ মিলিলিটার হলেও দেশে সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে ২৩৯.২৯ মিলিলিটার।

টেকসই উন্নয়নে দুগ্ধ খাত

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর খামার ব্যবস্থাপনা, জিনভিত্তিক উন্নত জাত নির্বাচন এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার দুগ্ধ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। এর সঙ্গে নারী খামারিদের অংশগ্রহণ দেশের দুগ্ধ উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও শক্তিশালী করছে।

এ বছরের জাতীয় আয়োজনের মাধ্যমে দুগ্ধ খাতে নারীদের অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪