| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রামিসা হত্যা: পাওয়া গেলো ডলারের পরিচয়, তদন্তে প্রমাণ মেলেনি

  • আপডেট টাইম: 02-06-2026 ইং
  • 2903 বার পঠিত
রামিসা হত্যা: পাওয়া গেলো ডলারের পরিচয়, তদন্তে প্রমাণ মেলেনি

রাজধানীর পল্লবীর আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার আদালতে বারবার ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণেই ডলার নামের ওই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ঘটনাস্থল সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনায় ডলারের কোনো সংশ্লিষ্টতা বা উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি। ফলে অভিযোগপত্রেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, ডলার পল্লবী এলাকারই বাসিন্দা এবং ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি বাড়ি দূরেই তার বসবাস। তারা জানান, তিনি মাদকাসক্ত এবং পেশায় অটোরিকশাচালক। একই এলাকায় রিকশার গ্যারেজে কাজ করতেন আসামি সোহেল রানা, সে সূত্রে তাদের মধ্যে পূর্বপরিচয় ছিল এবং ডলারের গ্যারেজে নিয়মিত যাতায়াতও ছিল।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ডলারের পরিবার তুলনামূলকভাবে সচ্ছল হলেও তিনি নেশাগ্রস্ত হওয়ায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

ডলারের বড় ভাই সেলিম রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে ডলারের কোনো সম্পর্ক নেই। নেশার কারণে তিনি আলাদা থাকেন এবং পরিবারের সদস্যরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে সোমবার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত হয়ে সোহেল রানা দাবি করেন, “ধর্ষণ করেছে ডলার, মারছেও ডলার। আমি শুধু লাশ গুম করতে চেয়েছি।” পরে তিনি আরও বলেন, “মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ডলার আমাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল।”

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, তদন্তকালে ডলার নামের একজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ডিজিটাল তথ্যেও ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর সোহেল রানা একাই পালিয়ে যায় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও ডলারের নাম উল্লেখ করেনি। আদালতে হঠাৎ করে তার এমন বক্তব্যকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বিচারপ্রক্রিয়া ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। তদন্ত শেষে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে বিচার কার্যক্রম চলছে।

হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪