| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো সরকার

  • আপডেট টাইম: 03-06-2026 ইং
  • 791 বার পঠিত
মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো সরকার

মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের বহুল ব্যবহৃত এসব যানবাহনের ওপর কোনো ধরনের নতুন কর আরোপ করা হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের করের চাপ কমাতে এ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাব অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সিসি ভেদে বছরে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা কর আরোপের কথা ছিল।

তবে এ প্রস্তাব প্রকাশের পর দেশজুড়ে মোটরসাইকেল চালক ও রাইড শেয়ার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান এবং এনবিআর ঘেরাও কর্মসূচিও পালন করা হয়। ব্যবহারকারীরা দাবি করেন, মোটরসাইকেল এখন আর শুধু শখের বাহন নয়; এটি অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং রাইড শেয়ার চালকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত মাধ্যম।

প্রতিবাদকারীরা আরও বলেন, মোটরসাইকেল মালিকরা ইতোমধ্যে নিবন্ধন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বীমা ও জ্বালানির ওপর বিদ্যমান কর পরিশোধ করছেন। এর সঙ্গে নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ করলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতো।

এনবিআর সূত্র জানায়, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা থেকে অগ্রিম আয়কর আদায় করা হলে বছরে প্রায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব আসতে পারত। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শুরুতে এ প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও পরে জনদুর্ভোগ বিবেচনায় তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে ১৫০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের মালিকদের করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন :

বিদ্যুতের দাম বাড়লো পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে

বর্তমানে দেশে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন ফি ও দুই বছর পরপর রোড ট্যাক্স নেওয়া হয়। ৫০ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ৯ হাজার ২৯১ টাকা এবং দুই বছর পরপর এক হাজার ১৫০ টাকা রোড ট্যাক্স দিতে হয়। ১২৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ১১ হাজার ৭৬৪ টাকা এবং দুই বছর পরপর দুই হাজার ৩০০ টাকা রোড ট্যাক্স দিতে হয়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার। অন্যদিকে খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে অন্তত ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, যার মধ্যে রাজধানীতেই রয়েছে ১২ থেকে ১৫ লাখ।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন কর আরোপ করা হলে মোটরসাইকেলের বিক্রি ও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত। দেশে গত 

এক দশকে হোন্ডা, ইয়মাহা, সুজুকি, বাজা ও টিভিএসের বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদনে বড় বিনিয়োগ হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪