বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে এখন তরল খাবার দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি তা গ্রহণ করতে পারছেন। শয্যাপাশে থাকা ছোট পুত্রবধূ শর্মিলা রহমানের সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা বলছেন। ডাকলে চিকিৎসকদের প্রতিও সাড়া দিচ্ছেন তিনি।
চার দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতির নতুন কোনো অবনতি হয়নি। এটিকে তাঁরা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে, ডায়ালাইসিস সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন বেশ কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষাও করা হয়েছে।
শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হলে তাঁকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর বা লন্ডন বিবেচনায় আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
মেডিকেল বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন লন্ডন ক্লিনিকের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও যেখানে গত জানুয়ারিতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হয়েছিল। দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রতিদিনই নতুন করণীয় ঠিক করা হচ্ছে। লন্ডন থেকে ডা. জোবাইদা রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনসসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরাও ভার্চুয়ালি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
চীন, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ও মাউন্ট সিনাইসহ বিভিন্ন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের যৌথ পরামর্শে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে ঢাকায় রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে রাশিয়ান দূতাবাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফুল ও পত্র নিয়ে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান। চেয়ারপারসনের পক্ষে তা গ্রহণ করেন তাঁর একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার।
অন্যদিকে, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলেও কোনো অবনতি হয়নি—এটি বর্তমানে ‘অপরিবর্তিত’। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই চেয়ারপারসন সুস্থ হয়ে উঠবেন।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লন্ডন থেকে পুরো চিকিৎসার সমন্বয় করছেন এবং মায়ের শারীরিক অবস্থার কারণে উদ্বেগে সময় কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রিজভী।